রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ০৬:৫৪ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

এবার ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ব্যাংক ঋণের সুদহার দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে গতকাল জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপনে ঋণের সুদহার বাড়ানোর এ ঘোষণা দেয়া হয়। এর একদিন আগে বুধবার নীতি সুদহার বা রেপো রেটও দশমিক ৭৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছিল। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সুদহার বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানানো হয়েছে।

সুদহার বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির বিরূপ প্রভাব পড়ছে। মূল্যস্ফীতি পর্যায়ক্রমে হ্রাস করার লক্ষ্যে সুদহার বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সুদহার বৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত নতুনভাবে বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে প্রযোজ্য হবে।

চলতি অক্টোবরের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত স্মার্ট রেট হলো ৭ দশমিক ২ শতাংশ। এর সঙ্গে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মার্জিন যুক্ত হলে ব্যাংক ঋণের সুদহার দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৭ শতাংশে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সুদ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাজারে অর্থের সরবরাহ কমানো দরকার। এজন্য নীতি সুদহারের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের সুদহারও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমন এক সময় সুদহার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, যখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করছে। এরই মধ্যে প্রতিনিধি দলটি কয়েক দফায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছে। সংস্থাটির কাছ থেকে প্রতিশ্রুত ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ প্রাপ্তির শর্ত হিসাবে দেশের ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের সংস্কার কার্যক্রম চলছে। দাতা সংস্থাটির ঋণ দেয়ার শর্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে ব্যাংক ঋণের বাজারভিত্তিক সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে, যা স্মার্ট বা সিক্স মান্থস মুভিং অ্যাভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল হিসেবে পরিচিত। প্রতি মাসের শুরুতে এ স্মার্ট রেট জানিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত জুলাইয়ে স্মার্ট রেট ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। এরপর থেকে এ হার বাড়তির দিকে রয়েছে। চলতি অক্টোবরের জন্য স্মার্ট রেট ৭ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণের সুদহার বৃদ্ধির ঘোষণা দেশের ব্যাংক কর্মকর্তাদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে বলে জানালেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘দেশের ব্যাংক খাতে এখন ডলারের পাশাপাশি তারল্যেরও সংকট চলছে। অনেক ব্যাংকের হাতেই বিনিয়োগ করার মতো টাকা নেই। এ অবস্থায় রেপোর সুদহার বাড়ানোয় তহবিল সংগ্রহের ব্যয় আরো বেড়ে গেছে। ঋণের সুদহার না বাড়ানো হলে ব্যাংকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তো। এখন আমরা আমানতের সুদহার বাড়াতে পারব।’

২০২১ সালের মাঝামাঝি থেকেই দেশের মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে দেশের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে এলেও এর হার ছিল ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। আগস্টে তা ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। যদিও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে এক বছর আগে দেউলিয়াত্বের মুখে পড়া শ্রীলংকায় মূল্যস্ফীতি এখন ২ শতাংশেরও নিচে। প্রতিবেশী দেশ ভারতের মূল্যস্ফীতিও ৫ শতাংশের ঘরে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছিলেন অর্থনীতিবিদরা। যদিও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বক্তব্য ছিল, দেশের বিরাজমান মূল্যস্ফীতি টাকার অবমূল্যায়নের ফল। এতে সুদহারের ভূমিকা খুব বেশি নেই।

তবে শেষ পর্যন্ত চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে বুধবার নীতি সুদহার বা রেপো রেট এক ধাক্কায় দশমিক ৭৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে গতকাল দেশে রেপো রেট দাঁড়ায় ৭ দশমিক ২৫ শতাংশে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জারীকৃত এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নীতি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ৮ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নীতি সুদহার করিডোরের নিম্নসীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো যে সুদহারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ধার নেয়, সেটিকেই নীতি সুদহার বলে। নীতি সুদহার বাড়ানোয় ব্যাংকগুলোর এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ ধার করার ব্যয় বাড়ল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়িয়ে ঋণের লাগাম টানার উদ্যোগের মধ্যেই বাজারে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। চলতি বছরের আগস্টে দেশের বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশে, যা গত ২২ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০২১ সালের অক্টোবরে বেসরকারি খাতের ঋণে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সর্বশেষ জুলাইয়ে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। বিপরীতে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩৮ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ, সুদহার কম থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক থেকে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় ঋণের সুদহার বৃদ্ধির ঘোষণা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কতটা ভূমিকা রাখবে সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com